Header Ads Widget

Responsive Advertisement

মাত্র ₹8.60 লাখে লঞ্চ – Honda CB750 Hornet ভারতে এসেছে! জেনে নিন মাইলেজ, ফিচার আর দাম

Honda CB750 Hornet বাইকের সাইড ভিউ, ৭৫Nm টর্ক, হুইলি কন্ট্রোল ও TFT ডিসপ্লে সহ প্রিমিয়াম ফিচারযুক্ত মডেল

মাত্র ₹8.60 লাখে লঞ্চ – Honda CB750 Hornet ভারতে এসেছে! জেনে নিন মাইলেজ, ফিচার আর দাম

Honda CB750 Hornet হল এমন একটা বাইক, যাদের বাইকের প্রতি একটু ভালবাসা আছে তারা এই নামটা শুনলেই এর ব্যাপারে জানতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এই বাইকটা শুধু দেখতে স্টাইলিশ না, ইঞ্জিন পারফরম্যান্স থেকে শুরু করে ফিচার পর্যন্ত একেবারে দারুণ। আপনি যদি একটা পাওয়ারফুল, আধুনিক, স্পোর্টি বাইক খুঁজছেন তাহলে আপনার জন্য এই বাইকটা হতে পারে একেবারে পারফেক্ট। এর স্পেসিফিকেশন, মাইলেজ, ফিচার আর দাম নিয়ে আপনারা অনেকেই খোঁজখবর নিচ্ছেন। তাই আজকে আমি আপনাদের এই বাইকের ইঞ্জিন থেকে শুরু করে মাইলেজ, রঙ, দাম আর ভারতে কবে এসেছে, সব কিছুই এক এক করে বিস্তারিতভাবে বলব।

ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স

এই গাড়ির ইঞ্জিনটা খুব শক্তিশালী। এই গাড়িটিতে যে ইঞ্জিনটি আছে সেটি হল ৭৫৫ সিসির BS6 ইঞ্জিন। আপনি বুঝতেই পারছেন তাহলে এই ইঞ্জিনটা কত শক্তিশালী। আপনি যখন গাড়িটি চালাবেন তখন এই ইঞ্জিন ৯০.৫ বিএইচপি শক্তি এবং ৭৫ এনএম টর্ক উৎপন্ন করবে যার ফলে আপনার গাড়িটি দ্রুত গতিতে এবং স্মুথলি চলবে।

এই ইঞ্জিনটা হল একটি প্যারালাল-টুইন, লিকুইড কুলড ইঞ্জিন যার ২৭০ ডিগ্রির ক্র্যাঙ্ক শ্যাফট রয়েছে। এর মানে হলো ইঞ্জিনে দুটি সিলিন্ডার আছে, ইঞ্জিন যাতে গরম না হয়ে যায় তারও ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং আপনি যাতে স্মুথলি ও দ্রুত চালাতে পারেন সেই জন্য ওই ২৭০ ডিগ্রীর ক্র্যাঙ্ক শ্যাফট দেওয়া হয়েছে। যার ফলে একটি সিলিন্ডার চালু হবে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটু পরে আরেকটি সিলিন্ডার চালু হবে, এর ফলেই আপনি স্মুথলি গাড়িটি চালাতে পারবেন এবং গাড়িটির আওয়াজও বেশ একটু ভারী আওয়াজ হবে। এর ফলে গাড়িটিকে একটি স্পোর্টি বাইকের মত মনে হবে।

আরো পড়ুন: https://babaiigl.blogspot.com/2025/07/yamaha-mt-15.html

ব্রেক ও সেফটি

কোম্পানি Honda CB750 Hornet বাইকটিকে সেফটির দিক থেকেও একদম জবরদস্ত বানিয়েছে। আপনি এই গাড়িটির সামনের ও পিছনের চাকাতে ডিস্ক ব্রেক পাবেন। আর এই ডিস্ক ব্রেক গুলিতে এবিএস সিস্টেম যুক্ত আছে। যার মানে হল, আপনি যদি হঠাৎ করে ব্রেক মারেন, তাহলে গাড়ির স্পিড অনুযায়ী এবিএস সিস্টেম সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং চাকা দুটি ঠিকঠাকভাবে থামবে। এতে আপনার গাড়ি স্লিপ করে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে এবং এর ফলে আপনি নিরাপদ থাকবেন সেই মুহূর্তে।

ফিচার ও টেকনোলজি

এই বাইকে অনেক আধুনিক ফিচার দেওয়া হয়েছে – যেমন ফুল-LED আলো, ব্লুটুথ যুক্ত ৫ ইঞ্চির রঙিন TFT ডিসপ্লে, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, তিনটি রাইড মোড (Sport, Standard, Rain), তিন স্তরের হুইলি কন্ট্রোল এবং Smartphone Voice Control System (HSVCs)। তাহলে আপনি বুঝতেই পারছেন কোম্পানি এই গাড়িটিকে কতটা আধুনিক বানিয়েছে।

সাসপেনশন ও কমফোর্ট

বাইকের সামনে ৪১ মিমি Showa Separate Function Forks এবং পেছনে প্রো-লিংক রিয়ার মনোশক দেওয়া হয়েছে, যার ফলে আপনি যখন গাড়িটি চালাবেন তখন যদি রাস্তা খারাপও হয় অর্থাৎ রাস্তায় যদি গর্ত থাকে এবং আপনার গাড়ি যদি বাম্পারের উপর দিয়ে ওঠে তখন আপনার ঝাকুনি কম লাগবে। এর ফলে আপনি আরাম করে গাড়ি চালাতে পারবেন।

ওজন, ফুয়েল ট্যাঙ্ক এবং গাড়ির মাইলেজ সম্পর্কিত তথ্য

CB750 Hornet-এর ওজন প্রায় ১৯১ কেজি এবং এতে যে ফুয়েল ট্যাঙ্কটি রয়েছে সেটিতে আপনি ১৫ লিটার পর্যন্ত পেট্রোল ভরতে পারবেন। আর এই গাড়ির যদি মাইলেজের কথা বলি তো এই গাড়িতে আপনি এক লিটার তেলে কোম্পানির মতে আনুমানিক ২৩ কিলোমিটার পর্যন্ত রাস্তা যেতে পারবেন।

আনুমানিক বললাম কারণ আপনি কী রকম রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছেন মাইলেজ তার ওপরও নির্ভর করে। কারণ আপনি যদি শহরের গলি-গালিতে চালান বা হেভি ট্রাফিকে চালান অর্থাৎ বারবার ব্রেক মারেন, ক্লাচ চাপেন, তাহলে আপনি মাইলেজ একটু কম পাবেন। আর আপনি যদি হাইওয়েতে চালান অর্থাৎ একটানা গাড়ি চালান ব্রেক, ক্লাচ এগুলো কম চেপে, তাহলে আপনি মাইলেজ একটু বেশি পাবেন। আশা করি আপনি এই ব্যাপারটা জানেন।

রঙের অপশন

আন্তর্জাতিকভাবে এই বাইকটি চারটি রঙে পাওয়া যাবে – Graphite Black, Pearl Glare White, Matte Iridium Gray Metallic এবং Matte Goldfinch Yellow।

বাইকটির এক্স-শোরুম দাম

এই বাইকটি ভারতে ইতিমধ্যেই লঞ্চ হয়েছে। বিভিন্ন অনলাইন সোর্স অনুযায়ী, Honda CB750 Hornet-এর এক্স-শোরুম দাম প্রায় ₹8.60 লাখ থেকে শুরু হতে পারে। তবে বিভিন্ন শহর বা রাজ্য অনুযায়ী এই দাম কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

ভারতে লঞ্চ

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই বাইকটি ভারতে মে ২০২৫ লঞ্চ হয়েছে। বহুদিন ধরেই এই বাইকের জন্য বাইকপ্রেমীরা অপেক্ষা করছিলেন, এবং অবশেষে Honda এটি ভারতীয় বাজারে আনল। তবে এর দাম কিছুটা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ এতে অনেক প্রিমিয়াম ফিচার রয়েছে।

ডিসক্লেইমার

আমি এই কনটেন্টে যেসব তথ্য লিখেছি সেগুলো অনলাইন সোর্স আর বাইরের দেশের রিভিউ দেখে লেখা হয়েছে, এবং কিছু কিছু তথ্য Honda-এর অফিসিয়াল সোর্স থেকেও নেওয়া হয়েছে। তবে সব তথ্য অফিসিয়ালি কনফার্ম করতে আপনি Honda কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা আপনার কাছাকাছি কোনো শোরুমে গিয়ে সমস্ত বর্তমান এবং সঠিক তথ্য জেনে নিয়ে তারপরেই বাইকটি কেনার সিদ্ধান্ত নেবেন। কারণ, কিছু কিছু স্পেসিফিকেশন বা ফিচার রিভিশন হতে পারে।

Post a Comment

0 Comments